Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes
ব্রেকিং:

যুধিষ্ঠির বনবাস, নবকুমারের পথ ভূল ও থেমে যাওয়া আকাশ

ইমাউল হক, ওসি ডিবি (যশোর):
যুধিষ্ঠির হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে– পঞ্চপাণ্ডবদের একজন। অন্যান্য পাণ্ডবদের মতেই ইনিও ছিলেন পাণ্ডুর ক্ষেত্রজ পুত্র। এঁর প্রকৃত পিতা ধর্ম (যম )। মায়ের নাম কুন্তী (কুন্তীর দ্বিতীয় পুত্র)। উল্লেখ্য, কুন্তীর প্রথম পুত্র ছিলেন কর্ণ (সূর্য-এর ঔরসে জাত)।
নারদের পরামর্শে যুধিষ্ঠির রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজন করেন। মগধরাজ জরাসন্ধ এই যজ্ঞের বিঘ্ন সৃষ্টি করবেন জেনে- কৃষ্ণ, ভীম ও অর্জুন মগধ রাজ্যে যান। এখানে ভীম জরাসন্ধকে হত্যা করেন। এরপর ধৃতরাষ্ট্র নিজ উদ্যোগে পঞ্চপাণ্ডব, দ্রৌপদী এবং কুন্তীকে হস্তিনাপুরে নিয়ে আসেন। পাণ্ডবরা ফিরে এসে ইন্দ্রপ্রস্থ নগর প্রতিষ্ঠা করে পৃথক রাজ্য স্থাপন করেন এবং যুধিষ্ঠির রাজা হন। রাজসূয় যজ্ঞের অর্থ আহরণের জন্য পাণ্ডবরা দিগ্বিজয়ে বের হন। যথাসময়ে এঁরা দিগ্বিজয় শেষে ফিরে এলে যুধিষ্ঠির রাজসূয়ো যজ্ঞ সম্পন্ন করেন। দ্রৌপদীকে নিয়ে যাতে ভ্রাতৃবিরোধ না ঘটে, সে কারণে নারদ নিয়ম করে দেন যে, একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, দ্রৌপদী একজন মাত্র পাণ্ডবের অধীনে থাকবেন। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অধিকারপ্রাপ্ত পাণ্ডব ব্যতীত অন্য কোন পাণ্ডব দ্রৌপদীকে গ্রহণ করলে বা দ্রৌপদীর সাথে অধিকারপ্রাপ্ত পাণ্ডবের বিহারকালে অন্য পাণ্ডব দর্শন করলে, তাঁকে ১২ বৎসর বনবাসী থাকতে হবে। ঘটনাক্রমে- একবার এক ব্রাহ্মণকে সাহায্য করার জন্য, অর্জুন অস্ত্রাগারে প্রবেশ করলে, সেখানে যুধিষ্ঠিরের সাথে দ্রৌপদীকে এক শয্যায় দেখতে পান। এই কারণে অর্জুন ১২ বৎসর বনবাসের জন্য গৃহত্যাগ করেন। ১২ বৎসর পরে ভাইদের সাথে মিলিত হন। দুর্যোধন যজ্ঞানুষ্ঠানে এসে পাণ্ডবদের ঐশ্বর্যে ঈর্ষান্বিত হন এবং পাণ্ডবদের ক্ষতি করার জন্য শকুনি’র (দুর্যোধনের মামা) পরামর্শ নেন।
শকুনির পরামর্শে দুর্যোধন যুধিষ্ঠিরকে পাশা খেলায় নিমন্ত্রণ করেন। যুধিষ্ঠির উক্ত খেলায় রাজী হলে, শকুনি কপট পাশাতে যুধিষ্ঠিরকে পরাজিত করেন। এই খেলায় যুধিষ্ঠির দ্রৌপদীসহ রাজ্যপাট হারান। দুর্যোধনের নির্দেশে দুঃশাসন রজস্বঃলা দ্রৌপদীর চুল ধরে সভায় আনেন। কর্ণের পরামর্শে প্রকাশ্য সভায় দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করা শুরু করলে, দ্রৌপদীর কাতর আহ্বানে কৃষ্ণ অলৌকিকভাবে তাঁকে অশেষ কাপড় দ্বারা আবৃত করে রাখেন। পরে ধৃতরাষ্ট্র সকলকে মুক্তি দেন। দুর্যোধন ও শকুনি’র পরামর্শে ধৃতরাষ্ট্র যুধিষ্ঠিরকে পুনরায় পাশা খেলায় অনুমোদন দান করেন। এবার যুধিষ্ঠির হেরে গিয়ে ১২ বৎসর বনবাস ও ১ বৎসর অজ্ঞাতবাসের শাস্তি পান। এরপর পাণ্ডবরা রাজ্য ত্যাগ করে বনবাসের পথে গেলে দ্রৌপদী তাঁদের সাথে যান

বনবাসে একাদশ বৎসরে যমুনার উৎপত্তিস্থানের নিকটস্থ বিশাখযূপ বনে পাণ্ডবদের বসবাসকালে, একদিন ভীম মৃগয়ায় বের হন। সেখানে অগস্ত্য-শাপে অজগররূপী নহুষ ভীমকে বেষ্ঠন করে আহার করতে উদ্যত হন। যুধিষ্ঠির বিভিন্ন দুর্লক্ষণ দেখে ভীমের খোঁজে বের হয়ে, অজগররূপী নহুষের কাছে উপস্থিত হন। যুধিষ্ঠির নহুষের কাছে ভীমের মুক্তি দাবী করলে, নহুষ যুধিষ্ঠিরের কাছে কিছু প্রশ্নের উত্তর চেয়ে বলেন যে, প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিলেই তবে ভীমকে মুক্তি দেবেন। এরপর যুধিষ্ঠির নহুষের প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিয়ে ভীমকে উদ্ধার করেন। এই সময় নহুষ অভিশাপ মুক্ত হন। পাণ্ডবরা দ্বৈতবনে অবস্থানকালে দুর্যোধন মৃগয়ার অছিলায় পাণ্ডবদের দুর্দশা দেখতে এসে গন্ধর্বরাজ চিত্রসেনের দ্বারা নিগৃহীত হলে পাণ্ডবরা তাঁকে রক্ষা করেন। এই সময় আত্মগ্লানিতে দুর্যোধন প্রায়োপবেশন করেন। এরপর কাম্যকবনে পাণ্ডবরা ফিরে এসে বসবাস করতে থাকে। একদিন পাণ্ডবদের অনুপস্থিতিতে জয়দ্রথ দ্রৌপদীকে হরণ করেন। পাণ্ডবরা পরে জয়দ্রথকে ধরে এনে লাঞ্ছিত করতে থাকলে যুধিষ্ঠির তাঁকে রক্ষা করেন। কিন্তু ভীম তাঁর মাথায় অর্ধাস্ত্র বাণদ্বারা পঞ্চচূড়া তৈরি করে পাণ্ডবদের দাসরূপে বেড়াতে আদেশ করেন। এরপরও যুধিষ্ঠির তাঁকে মুক্তি দেন। বনবাসের দ্বাদশবর্ষে যুধিষ্ঠিরকে পরীক্ষা করার জন্য ধর্মদেবতা হরিণরূপে এক ব্রাহ্মণের অরণি-মন্থ চুরি করেন। ব্রাহ্মণ তাঁর অগ্নিহোত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় যুধিষ্ঠিরের শরণাপন্ন হন। এরপর পঞ্চপাণ্ডব উক্ত হরিণের অনুসরণ করেন। হরিণরূপী ধর্ম অদৃশ্য হলে, যুধিষ্ঠির প্রার্থী ব্রাহ্মণের বিমুখ হওয়ার আশঙ্কায় অত্যন্ত দুঃখিত হন। দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লে যুধিষ্ঠির নকুলকে নিকটস্থ সরোবর থেকে জল সংগ্রহের আদেশ দেন। নকুল উক্ত সরোবর থেকে জল সংগ্রহ করতে গেলে ধর্ম, বকরূপে আকাশ থেকে তাঁর প্রশ্নের উত্তর দিয়ে জল সংগ্রহ করতে বললেন। নকুল তা অগ্রাহ্য করে অগ্রসর হলে ভূপতিত হন। এরপর যুধিষ্ঠির অন্যান্য ভাইদের পাঠালেন। প্রত্যেকেই ধর্মকে অগ্রাহ্য করে জল সংগ্রহ করতে গেলে ভূপতিত হন। এরপর যুধিষ্ঠির নিজেই সরোবরে উপস্থিত হয়ে চার ভাইয়ের অবস্থা দেখলেন। ধর্ম তাঁর প্রশ্নের উত্তর দিয়ে জল সংগ্রহ করতে বলেন। যুধিষ্ঠির সকল প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিলে ধর্ম তাঁকে যে কোন এক ভাইয়ের জীবন ভিক্ষা দিতে ইচ্ছা করলেন। উত্তরে যুধিষ্ঠির বলেন যে, কুন্তী ও মাদ্রীর অন্তত একটি করে সন্তান বেঁচে থাকুক। ধর্ম তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে অপর চার পাণ্ডবের জীবনদান করলেন। এরপর ধর্ম বর প্রার্থনা করতে বললে, যুধিষ্ঠির ব্রাহ্মণের অরণি-মন্থ ফিরে চাইলেন। ধর্ম অরণি-মন্থ ফিরিয়ে দিয়ে অন্য বর প্রার্থনা করতে বললেন। এরপর অজ্ঞাতবাসকালে তাদের যেন কেউ চিনতে না পারে এই বর প্রার্থনা করলে, ধর্ম সেই বর দান করে প্রস্থান করেন। এরপর ধর্ম পাণ্ডবদের বিরাট রাজ্যে বাস করার উপদেশ দিয়ে প্রস্থান করেন।[৩
আশা ছাড়তে নারাজ সমরেশদার জবাব, “জীবনেও আছে বইকী। ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো মানুষ এখনও আছে। যদি জিজ্ঞেস করো, কেন করছ? লাভ কী? জবাবে রবীন্দ্রনাথের গানের মতোই বলবে, আমার এই কাজ করাতেই আনন্দ। হ্যাঁ, আগের মতো অত জনকে হয়তো পাওয়া যাবে না, কিন্তু খুঁজলে মিলবে।

“বিশেষ নাবিকেরা প্রতিগমন করিতে অসম্মত, তাহারা কথার বাধ্য নহে। তাহারা বলিতেছে যে, নবকুমারকে ব্যাঘ্রে হত্যা করিয়াছে। তাহাই সম্ভব। তবে এত ক্লেশ-স্বীকার কি জন্য?
এরূপ বিবেচনা করিয়া যাত্রীরা নবকুমার ব্যতীত স্বদেশে গমনই উচিত বিবেচনা করিলেন। নবকুমার সেই ভীষণ সমুদ্রতীরে বনবাসে বিসর্জিত হইলেন।
ইহা শুনিয়া কেউ যদি প্রতিজ্ঞা করেন, কখনও পরের উপবাস নিবারণার্থ কাষ্ঠাহরণে যাইবেন না, তবে তিনি উপহাসাস্পদ। আত্মোপকারীকে বনবাসে বিসর্জন করা যাহাদের প্রকৃতি, তাহার চিরকাল আত্মোপকারীকে বনবাস দিবে। কিন্তু যত বার বনবাসিত করুক না কেন, পরের কাষ্ঠাহরণ করা যাহার স্বভাব, সে পুনর্ব্বার পরের কাষ্ঠাহরণে যাইবে। তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?”
এই একখানা মোক্ষম প্রশ্ন ঠিকই, কিন্তু আজ ক’জনের মনে এই রকম প্রশ্ন জাগে, সেও আরেক মোক্ষম প্রশ্নই বটে।
বরং আরেকটি প্রশ্ন অনেক বেশি জরুরি আজকের দিনে, “উত্তম হইয়া আমি পাইবটা কী?”
এর উত্তর যে পায় সে পায়, যে পায় না সে কোনও দিনই পায় না। আর সত্যি বলতে কী কালে কালে উত্তমের সংজ্ঞাও তো পাল্টেছে, তাই নয় কি?
শহর না হয় বরাবর আত্মকেন্দ্রিক। কিন্তু আত্মীয়তার চাদরে ঘিরে রাখা বাংলার মফস্সল? নবকুমারের ঠিকানা কি এখন সেইখানেই?
খুঁজতে বেরিয়ে নিরাশ হতে হল। বাঁশবেড়িয়ার সোমেন, বনগাঁর ঈশানী, চন্দননগরের সাহানা বা বহরমপুরের তওফিক— কেউই বলতে পারল না।
এরা সকলেই কুড়ির এদিক ওদিক, বাবা-জ্যাঠাদের মুখে শুনেছে এমন মানুষ ডাইনে বাঁয়ে ছিল এককালে, কিন্তু নিজেদের আমলে তাদের দেখা মেলেনি আর।

পাশের মানুষটার দিকে তাকাতে গেলে পায়ের নীচের মাটি ফসকে যায় যদি? এই ভয় মগজে নিয়ে ঘড়ির কাঁটার পথ ধরে ছুটে বেড়াচ্ছি আমরা সক্কলে। পাশে গিয়ে দাঁড়াবার, বিপদে হাত বাড়াবার ইচ্ছে যদি বা থাকে, উপায় কই?
তর্কের খাতিরে বলা চলে, ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়। কিন্তু সময়ের জাঁতাকলে ইচ্ছের সেই জোর গুঁড়িয়ে মিহি হয়ে যেতে কত ক্ষণ? প্রশ্ন আরেকখানাও আছে।
অকুতোভয় ঝাঁপিয়ে পড়ার, আগুপিছু না ভেবেই এগিয়ে আসায়, পরোপকারের আগুনে হাত সেঁকে নেওয়ায় যে তৃপ্তি, তা একান্তই নিজের। এ কথা অনস্বীকার্য। কিন্তু আশপাশের পাঁচ-দশ জন মানুষের চোখেও সেই আগুনের একটু প্রতিফলন দেখতে ইচ্ছে করে যদি, তার উপায় কই?
নবকুমার হওয়ার ইচ্ছে থাকলেও, শেষমেশ এগিয়ে আসা হয় না হয়তো। বা দু’চারবার ঝাঁপিয়ে পড়বার পর মনে হয়, কেন করছি এ সব? কী লাভ?
কিন্তু ঘুরেফিরে সেই গোড়ার প্রশ্নেই এসে দাঁড়াচ্ছে এই লেখা। নবকুমার তাহলে গেল কোথায়?
‘মানুষ বড় কাঁদছে, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও/ এসে দাঁড়াও, ভেসে দাঁড়াও, এবং ভালবেসে দাঁড়াও’… লিখেছিলেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়।

পাল ছাড়া দলের কোন বেগ নাই।ভালোর কোন দিক নাই ।যে আকাশে উড়ে যাবে।ইচ্ছার কোন কর্ম নাই।কর্ম বাদ দিয়ে তো ধর্ম হয় না।ধর্ম দেবতা তো ঐ পারে।যে পারে উপরওলা আছে।নিজে ধান কর তো দোয়া কর তো অন্যদের জন্য।অন্য হতেই অন্ন আসে তোমার।অস্ত্র তোমার আদেশ আসে ফতেপুর হতে।বুদ্ধি তোমার কিন্তু লিখার আদেশ দেয় কচ্ছপ।লিখতে পার কিন্তু কলম বানায় মশিপুরের কোম্পানি। সব তো অমিল তো তুমি এত লাফাও কেন। তুমিই তো বনবাসে যাবে।নবকুমার দের আপন কেউ হয় না।
আর নতুবা যুধিষ্ঠির হও ,সে তো হতে পারবে না।তুমি কি জান মহাভারত অনেক কঠিন লেখা।আর সেটা তো আবার লেখা হবে না।
যা লেখা তাইতো ধরে রাখতে পাইক পেয়াদা লাগছে।
তবে তোমার জন্য জায়গা আছে সেটা হলো “অন্ধকারে থেমে যাওয়া “”

যশোরের গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ইমাউল হক এর নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*