Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes
ব্রেকিং:

মৃত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকাভূক্ত করায় আদালতে মামলা

এমএ মান্নান, তালা থেকে:
তালা উপজেলার কুমিরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকৃতি কুমার রায় ও দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আতিয়ার রহমানের যোগসাজসে ভুয়া ও তঞ্চকি ভোটার তালিকার মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের পাঁয়তারা করায় সংক্ষুব্ধ হয়ে অভিভাবক সদস্য পদপ্রার্থী কাজী নজরুল ইসলাম, আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে এডহক কমিটির সভাপতি সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন।
বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নীতিমালা অনুযায়ী জানা যায়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হবার ৩মাস পূর্বে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচনের তফশীল ঘোষনা,নির্ভূল চুড়ান্ত ভোটার প্রণয়ন, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ-জমা, যাচাই বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে নির্বাচনী ব্যবস্থা করা নিয়ম। কিন্তু আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় বিগত কমিটির সভাপতি ঘোষ সনৎ কুমারকে সভাপতি বানিয়ে এডহক কমিটি গঠন করেন। সম্প্রতি মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়ায় বিদ্যালয়ের নিয়মিত কমিটি গঠনের লক্ষে প্রণীত ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম তালিকা ভুক্ত করে আজ ২২নভেম্বর ভোট গ্রহণের জন্য পত্রিকায় তফসিল ঘোষনা করা হয়।
প্রাপ্ত মামলার বিবরণ থেকে জানা যায় চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় বেআইনি ভাবে রাঢ়ীপাড়া গ্রামের মৃত শেখ নিজাম উদ্দীনকে ২৮৩ নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এছাড়া একজন জনপ্রতিনিধি অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করার বিধান না থাকলেও সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন । এদিকে দুর্নীতিপরায়ন প্রধান শিক্ষকের বিগত দিনের সব অপকর্ম ঢাকতে পছন্দের লোকজনকে কমিটিতে আনার জন্যে মনগড়াভাবে তঞ্চকি ও ভুয়া ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা করায় সংক্ষুব্ধ হয়ে অভিভাবক সদস্য প্রার্থী ও জেলা পরিষদ সদস্য কাজী নজরুল ইসলাম হিল্লোল গত ১৮ নভেম্বর তালা সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী ১০১নম্বর মামলা দায়ের করেন । আদালতের বিজ্ঞ বিচারক দীর্ঘ শুনানী শেষে ২৪ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর আদেশ দেন। আদেশের কপি নিয়ে ২০ নভেম্বর (মঙ্গলবার) বেলা ১টার সময় জারী করতে আসলে দূর্ণীতি পরায়ন প্রধান শিক্ষক নিতে অস্বীকার করে পরবর্তীতে গ্রহণ করেন। এর আগেও ম্যনেজিং কমিটি গঠনের লক্ষে প্রণীত ভোটার তালিকায় দশম শ্রেণীর ছাত্র মেহেদী হাসানের পিতা আফসার আলী মোড়লের স্থলে আব্দুল হাকিম মোল্লা উল্লেখ করেন। ঐ ভোটার তালিকায় বেআইনী ও তঞ্চকীভাবে ৬০৮ জনকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এরমধ্যে কাটাখালী গ্রামের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী দীপ্তি রাণী মন্ডল ও তার সহোদর দীপ্ত মন্ডলের পিতা দীপংকর মন্ডলকে ভোটার তালিকায় ৩২৫ ও ৫২৬ ক্রমিকে অন্তর্ভূক্ত করে একই ব্যক্তিকে দুইটি ভোটার বানানো হয়। এছাড়া বিদ্যালয় থেকে বহু পূর্বে চলে যাওয়া ৬ষ্ঠ শ্রেণীর মাহফুজার রহমানের অভিভাবক মফিদুল ইসলাম,৭ম শ্রেণীর ফাহমিদা আক্তার বিথীর অভিভাবক শেখ মোহাম্মদ হোসেন, একই শ্রেণীর আবু হোমাইয়ের অভিভাবক কুলসুম বেগম, ৯ম শ্রেণীর ছাত্র রাজু হোসেনের অভিভাবক মাজেদা বেগমসহ অসংখ্য ভুয়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় অভিভাবক ভাগবাহ গ্রামের আফসার আলী মামলা দায়ের করেন । এর পর নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায় । বারবার ভুয়া ভোটার তালিকায় নির্বাচনের পায়তারা করার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সুকৃতি কুমার রায় বলেন গতবার কয়েকটি ভোটারের নাম ঠিকানা ভুল হয়েছিল বলে নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। এবার ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম অনর্Íভুক্ত হওয়ায় মামলা হয়েছে। ভুলত্রæটি তো মানুষের জন্য, আমি কি করবো বলেন ? প্রধান শিক্ষকের এসব নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাÐে শিক্ষর্থীদের লেখাপড়া নিয়ে অভিভাবক মহল দারুণ ভাবে ফুঁসে উঠেছেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*