Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes
ব্রেকিং:

অভয়নগর ব্লাড ব্যাংক এখন এক থেকে চার হাজারে

দক্ষিণ বাংলা ডেস্ক:
শুরুটা করেছিল মাত্র একজন। আর সেই একজন থেকে এখন চার হাজার সদস্যের পরিবারের পরিণত হয়েছে অভয়নগর ব্লাড ব্যাংক। স্বেচ্ছায় অব্যাহত রক্তদান করে চলেছে এ সংগঠনের সদস্যরা। যে কোন গ্রুপের রক্ত দিয়ে মুমুর্ষ রোগীর প্রাণ বাঁচাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অভয়নগর ব্লাড ব্যাংকের গর্বিত সদস্যরা। জানা যায়, নওয়াপাড়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের গুয়াখোলা গ্রামের সৈয়দ আলী মোর্তজা সানি ও পারভীন আক্তারের একমাত্র সন্তান সৈয়দ সোহায়িব ইমতিয়াজ ইয়াদ নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন অভয়নগর ব্লাড ব্যাংক নামের স্বেচ্ছায় রক্তদান সংগঠন। ইমতিয়াজ ইয়াদ নওয়াপাড়া মডেল স্কল থেকে এসএসসি, নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাশ করে খুলনা সরকারি বিএল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে স্নাতক পাশ করেন। এরপর এয়ারটেলে বর্তমানে রহিম আফরোজ কোম্পানীতে কর্মরত আছেন। অভয়নগর ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সৈয়দ সোয়াইব ইমতিয়াজ ইয়াদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ২০১৫ সালের ১০ মে নিকট আত্মিয়কে রক্ত দানের মধ্যদিয়ে তাঁর রক্তদানের যাত্রা শুরু। এরপর চিন্তা করেন মানব কল্যাণে মুমুর্ষ রোগীর প্রাণ বাঁচাতে স্বেচ্ছায় রক্ত দানের সংগঠন গড়ার পরিকল্পনা। সব ধরণের যোগাযোগ করে ব্যার্থ হয়ে একাই গড়ে তোলেন অভয়নগর ব্লাড ব্যাংক নামের সেচ্ছায় রক্তদান সংগঠন। নাম করণ ও সামনে চলার ব্যাপারে ইমতিয়াজ ইয়াদ বলেন, স্বেচ্ছায় রক্তদানের চিন্তা মাথায় আসার পর জন্মস্থল অভয়নগরকে জড়িয়ে নাম করণের পরিকল্পনা করা হয়। ২০১৫ সালের ১০ মে রবিবার রাতে অভয়নগর ব্লাড ব্যাংক নামের একটি আইডি খোলা হয় ফেইসবুকে। যাতে আহবান করা হয় মুমুর্ষ রোগীর রক্তের প্রয়োজনে নাম-ঠিকানা, হাসপাতালের নাম ও প্রয়োজনিয় রক্তের গ্রুপ লিখে পোস্ট করার। সাড়াও পড়তে থাকে ফেইসবুক আইডিতে। কিন্তু রক্ত দাতা সদস্যের সংকট দেখা দেয়। “প্রাণ বাঁচাতে রক্তদানে নেই ভয়- একজন সুস্থ মানুষ তিন মাস অন্তর রক্ত দিতে পারে” বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেওয়া এমনই পরামর্শগুলো পোস্ট করতে শুরু করেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি আত্মিয়, বন্ধু ও পরিচিতদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন। সাথে সাথে তাদেরকে স্বেচ্ছায় রক্তাদানে উৎসাহ যোগাতে থাকেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে রক্তদাতা ও অভয়নগর ব্লাড ব্যাংকের সদস্য সংখ্যা। বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় চার হাজারে দাড়িয়েছে। দেওয়া হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার ব্যাগ বিভিন্ন গ্রুপের রক্ত। যে রক্ত এখনও অভয়নগর উপজেলাসহ যশোর-খুলনার অসংখ্য নবজাতক থেকে শুরু করে বৃদ্ধ মানুষকে সুস্থ রেখেছে। ব্লাড ব্যাংকের সদস্যদের এখন প্রাণের দাবী, অভয়নগরে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে রক্ত সংরক্ষনের জন্য একটি ব্লাড ব্যাংক গঠন করা জরুরী। যে সংগঠনের নাম হবে অভয়নগর বøাড ব্যাংক। এই একটি দাবী নিয়ে অব্যাহত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে অভয়নগর ব্লাড ব্যাংকের হাজার হাজার সদস্য।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*