Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes
ব্রেকিং:

বেনাপোলের শিউলি রানী দে আত্নপ্রত্যয়ী এক সফল নারী

মাসুদুর রহমান শেখ:
যশোর জেলার বেনাপোল পৌরসভার বাসিন্দা শিউলি রানী দে। জীবন সংগ্রামে বিজয়ী এক নারী। একদিন যার স্বপ্ন ভেঙ্গে গিয়েছিল নেশাগ্রস্থ স্বামীর নির্মম নিষ্ঠুরতায়। একমাত্র শিশু সন্তানকে ছেড়ে স্বামী গৃহত্যাগী হন। কিন্তু হারার আগে হেরে যাননি তিনি। তৃতীয় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নতিকরন প্রকল্প ( ইউজিআইআইপি -৩) এর সহয়য়তায় বেনাপোল পৌরসভা থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে যোদ্ধা হিসাবে গড়ে তোলেন নিজেকে। আজ তিনি দরিদ্র ও অসহায়ত্বকে জয় করেছেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আতœপ্রত্যয়ী এক সফল নারী হিসেবে। তার এ সফলতার অভিযাত্রায় এলজিইপির অবদান তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরন করেছেন। তাকে গত ২৪ তারিখে ঢাকায় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম সন্মাননা ক্রেষ্ট , সার্টিফিকেট, শাড়ী ওড়না সহ নগদ টাকা প্রদান করেন।

শিউলি রানী বেনাপোল পৌরসভায় আর দশজন নারীর মতই বর্নিল জীবনের স্বপ্ন দেখতেন। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়। দু’বছরের মাথায় কোল জুড়ে আসে একটি শিশু পুত্র। কিন্তু শিউলি রানীর সুখ বেশীদিন সইল না। নেশাগ্রস্থ স্বামী দিলীপ কুমার দে’র অত্যাচার সহ্য করতে হয়। হঠাৎ একদিন স্বামী সংসার ছেড়ে চলে যান।

অসহায় শিউলি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য খুজতে থাকেন। সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। এ বিষয় দক্ষতা না থাকায় তিনি সফল হলেন না। তবে দমে যাননি শিউলি রানী দে। এমনই এক সময় তৃতীয় নগর পরিচলন ও অবকাঠামো উন্নতি করন প্রকল্প ( ইউজিআইআইপি-৩) আয়োজিত উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জানতে পারেন বেনাপোল পৌরসভা দুস্থ, অসহায়, অবহেলিত নারীদের বিনামুল্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষন ও সহায়তা দিয়ে থাকে। তিনি আশার আলো দেখতে পান।

শিউলি রানী এই প্রকল্পভুক্ত বেনাপোল পৌরসভার জেন্ডার এ্যাকশন প্লান বাস্তবায়নের আওতায় তিন মাসের একটি সেলাই প্রশিক্ষন কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষনে দক্ষতার পরিচয় দেওয়ায় বেনাপোল পৌরসভা তাকে সেলাই প্রশিক্ষন কেন্দ্রে প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয় । তিনি পূর্ন উদ্যমে কাজ শুরু করেন। একই সময়ে তিনি পৌরসভা থেকে হস্তশিল্পে প্রশিক্ষন নিয়ে নিজ বাড়িতে কাজ শুরু করেন। চলতে থাকে সেলাই ও হস্তশিল্পের ব্যবসা। অল্পদিনের ব্যবধানে শিউলী স্থানীয় তার পন্যর চাহিদা সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। সেই থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীর ধীরে তার ব্যবসার প্রসার বাড়তে থাকে। সাফল্য এসে ধরা দেয় তার হাতের মুঠোয়। বর্তমানে তিনি মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করছেন। হস্তশিল্প সেলাইয়ের ওপর পিছিয়ে পড়া নারীকে প্রশিক্ষন দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিযেছেন। বর্তমানে তার সেই শিশু পুত্রটি উচ্চ মাধ্যমিকে লেখা পড়া করছেন।
ইউজি আইআইপি-৩ পকল্পের সহায়তায় আজ সফল শিউলী রানী আতœনির্ভরশীল হয়েছেন তার সাথের নারীরাও স্বালম্বী হয়েছেন। একই সঙ্গে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন আতœ মর্যদায়।

এ ব্যাপারে বেনাপোল পৌর মেয়র তার অনুভুতি ব্যাক্ত করে বলেন, আমি বেনাপোল পৌরসভার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর চিন্তা করলাম আমার পৌর এলাকার অসহায় দরিদ্র পিছিয়ে গড়া মানুষের জন্য কিছু করতে হবে। সেই থেকে বেনাপোল পৌরসভায় একটি আইটি কর্নার ও বেকার অসহায় নারীদের জন্য একটি সেলাই প্রশিক্ষন কেন্দ্র খুলি । এখান থেকে তারা বিনা পয়সায় প্রশিক্ষন নিয়ে অন্তত তাদের নিজেদের পায়ে দাড়াতে ও পরিবার পরিজনের পাশে দাড়াতে পারে তার জন্য আমি এগিয়ে আসি। আজ এ সেলাই প্রশিক্ষন কেন্দ্রে প্রশিক্ষন নিয়ে তারা নিজেরা স্বাবলম্বী। সেই সাথে এখান থেকে প্রতিবন্ধী নারী বুলিনা খাতুন দেশের শ্রেষ্ট আত্মনির্ভারশীল নারী হিসাবে পুরস্কার গ্রহন করেছে। আবারও আমার বেনাপোল পৌরসভার আর এক হার না মানা নারী শিউলী রানী দে স্থানীয় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী পুরস্কার দেওয়ায় আমি এ পৌর সভার মেয়র হিসাবে গর্ববোধ করি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*