Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes
ব্রেকিং:

“অবসরের ৩৯ দিন আগে চাকুরীচ্যুত” হতাশায় হাসপাতালে ভর্তি প্রভাষক সুফল চন্দ্র বিশ্বাস

বিশেষ প্রতিবেদক:
সুন্দলী গ্রামের সুফল চন্দ্র বিশ্বাস ছিলেন কলেজ শিক্ষক। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী এস.টি. স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখায় তিনি যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের প্রভাষক পদে কর্মরত ছিলেন।
পাশাপাশি এলাকার সকল সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলনেও তিনি ছিলেন একেবারেই সামনের সারির প্রতিবাদি মানুষ।
স্যালো মেশিনের ঋণের সুদ আদায় বিরোধী,কৃষক আন্দোলন এবং ভবদহ জলাবদ্ধতা দূরিকরণ আন্দোলনে তিনি ছিলেন অন্যতম সংগঠক।
২০১০ সালে অবসরে যাওয়ার মাত্র ৩৯ দিন আগে হঠাৎ তিনি জানতে পারলেন তাঁর একাডেমিক রেকর্ডে
গন্ডগোল আছে! তিনি আর এ পদে থাকতে পারেন না !!
তাঁকে চাকুরিচ্যুত করা হলো। শিক্ষা বোর্ডের আপিল অ্যান্ড আর্বিটেশন বোর্ড ছাড়াই তাঁর অবসর
গ্রহণের নির্বারিত দিনের পর ওই পদে আরেক জনকে নিয়োগ দেওয়া হলো। তখন তিনি অগত্যা আদালতে গেলেন সুফল চন্দ্র বিশ্বাস। মামলাটি চলমান।

সময়ের ব্যবধানে আস্তে আস্তে অসুস্থ হতে থাকেন তিনি। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ সুফল চন্দ্র বিশ্বাস। গত ছয়দিন ধরে তিনি অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকেরা উন্নত
চিকিৎসার জন্য তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছেন।

তাঁর একমাত্র ছেলে সুকেশ বিশ্বাস (প্রতিবন্ধী)। তিনি স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থায় (এনজিও) চাকরি করেন। দারুণ অর্থাভাবে তিনি তাঁকে খুলনায় নিতে পারছেন না। সুফল চন্দ্র বিশ্বাস মানুষের
অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছেন আজীবন। তাঁর নিজের অধিকার আদায়ের লড়াই আজ
হাসপাতালের শয্যায় লুটোপুটি খাচ্ছে।
এ বিষয়ে ছেলে সুকেশ বিশ্বাস জানান বাবার জীবন পার হয়েছে সুন্দলী এস টি স্কুল এন্ড কলেজে।কিন্তু অবসরে যাওয়ার আগে কলেজ কতৃপক্ষ তার সাথে নানা প্রকার অসহযোগীতা মূলক আচরণ করেন। জীবনের শেষ উপারজন হাতে না পেয়ে তিনি আস্তে আস্তে অসুস্থ হতে থাকেন। তিনি সারা জীবন সবার জন্য কাজ করলেন। অসুস্থ সমায়ে কারো সহযোগীতা পাচ্ছেন না তিনি।সুফল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন শুধু মাত্র কলেজ কতৃপক্ষের অবহেলার শিকার আমি।

এমত অবস্থায় এলাকার সুশীল সমাজ চাই তার মৃত্যুর আগে কলেক কতৃপক্ষের সহযোগীতায় তার অবসরের প্রাপ্যটুকু তিনি যেন বুঝে পান।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*