Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes
ব্রেকিং:

কেশবপুরে পৃথক ঘটনায় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত-৮

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
কেশবপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পৃথক দুইটি ঘটনায় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ ৮ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় চিকিৎসা নিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার ভোগতী গ্রামের মৃত মোজাম আলী সরদারের ছেলে মশিয়ার সরদারের সাথে একই গ্রামের মৃত পাঁচু সরদারের ছেলে রজব আলী সরদারের হাফ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে সোমবার সন্ধ্যায় কথা কাটা-কাটির একপর্যায়ে মশিয়ার সরদার ও রজব আলী সরদারের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে আহত হন মশিয়ার সরদার (৩০), তার স্ত্রী রেক্সনা বেগম (২৫), মা সোনাবান বিবি (৪৫), রজব আলী সরদার (৬০), তার স্ত্রী মান্দারী বেগম (৫০), ছেলে ইকবাল হোসেন সরদার (২১), আকব্বার সরদারের স্ত্রী শরিফা বেগম (৪০)। এর মধ্যে রজব আলী সরদার, তার ছেলে ইকবাল হোসেন সরদার ও শরিফা বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেশবপুর থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছিল বলে উভয় পক্ষ জানায়।

অপরদিকে কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা হামলা চালিয়ে বসতবাড়ি ভাংচুর, লুটপাট ও মারপিট করে আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আহত আমির হোসেনকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এঘটনায় আমির হোসেন বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মোমিনপুর মোড়ল পাড়ার পীরবক্স মোড়লের ছেলে আমির হোসেনের সাথে নওয়াব আলী মোড়লের ছেলে রিজাউল মোড়লের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে বুধবার রিজাউল মোড়লের নেতৃত্বে তার সহযোগী আব্দুল গফফার, আব্দুল গফুর, নওয়াব আলী, তানিয়া খাতুন ও রাবেয়া খাতুনসহ অজ্ঞাতানামা একদল ব্যক্তি আমির হোসেনের বসত-ঘর ভাংচুর করে। এসময় তারা ঘরের মধ্যে থাকা লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যাওয়ার সময় আমির হোসেন বাধা দিতে গেলে তারা আমির হোসেনকে মারপিট করে গুরুতর আহত করে। রিজাউল মোড়ল ঘর ভাংচুর, লুটপাট ও মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পৌতৃক সুত্রে আমরা ওই জমিটা পেয়েছি। আমির হোসেন আমাদের জমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিল। ওই জমি নিয়ে আমির হোসেনের সাথে আমাদের বিরোধ দীর্ঘদীনের। স্থানীয় মেম্বর, চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশের মাধ্যমে একাধিকবার শালিস করা হলেও সুষ্ঠু সমাধান হয়নি। এ নিয়ে মঙ্গলবার পারিবারিকভাবে মিটিং করেছি। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার আমরা ওই ঘর সরিয়ে নিতে বললে আমির হোসেন সরাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তখন আমরা একটি গোয়াল ঘরের চাল ও বেড়া খুলে দিয়েছি। সেখানে কোন মালপত্র ছিলোনা। এব্যাপারে কেশবপুর থানায় উপপরিদর্শক ফরিদউদ্দীন আহমেদ জানান, ঘরবাড়ি ভাংচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধের সুত্র ধরে এঘটনা ঘটেছে। একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*